
নিজস্ব প্রতিবাদক
গভীর রাতের নিঝুম নিস্তব্ধতা চিরে তখন চলছিল পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্ট। চারপাশ থমথমে, ড্রেনের পাশে একটি সিএনজি অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকলেও বাহ্যিকভাবে সন্দেহ করার মতো কিছু ছিল না। কিন্তু অপরাধীদের চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হলেও ফাঁকি দেওয়া যায়নি কর্তব্যনিষ্ঠ এক পুলিশ অফিসারের তীক্ষ্ণ নজর। নিজের জীবন বাজি রেখে এক দুঃসাহসিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাই সরকারি সম্পদ উদ্ধার করে এলাকায় প্রশংসায় ভাসছেন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) শাহনওয়াজ।
ঘটনার সূত্রপাত রাত আনুমানিক একটার দিকে। সীতাকুণ্ড/পটিয়া (নির্দিষ্ট এলাকার নাম বসান) থানার এসআই শাহনওয়াজ এলাকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত বাইক নিয়ে টহলে বের হন। হঠাৎই সড়কপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিটির গতিবিধি দেখে তাঁর মনে খটকা লাগে। তিনি মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে সিএনজিটির দিকে এগোতেই চালক সজোরে গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে এসআই শাহনওয়াজ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিএনজিটির পিছু নেন। শুরু হয় এক সিনেমার মতো রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া। টানা ৪০ মিনিট এবং প্রায় কয়েক কিলোমিটার ধাওয়া করার পর বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে সিএনজিটি কোণঠাসা করতে সক্ষম হন তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তা কাছে পৌঁছানোর আগেই ধরা পড়ার ভয়ে সিএনজি চালকসহ চোরাকারবারি দলের সদস্যরা যে যেদিকে পারে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তবে হাল ছাড়েননি এই কর্মকর্তা। চারপাশ তল্লাশি চালিয়ে ড্রেনের ভেতর লুকিয়ে থাকা চক্রের এক সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন তিনি। পরবর্তীতে সিএনজি ও আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে ড্রেন থেকে জব্দ করা হয় টিএনটি-র ১২৫ কেজি চোরাই সরকারি তার।
সফল এই অভিযান সম্পর্কে এসআই শাহনওয়াজ জানান, “জনগণের নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদ রক্ষা করা আমাদের প্রথম দায়িত্ব। প্রাথমিক অভিযানে মূল চক্রের একজনকে ধরা সম্ভব হয়েছে। তবে এই অভিযান এখানেই শেষ নয়। এটার সাথে জড়িত পুরো সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করা হয়েছে, খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে মধ্যরাতে এমন সাহসিকতা ও নিখুঁত অভিযানে সরকারি সম্পদ উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। এলাকার ব্যবসায়ীরা এসআই শাহনওয়াজ ও তাঁর টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়েছেন।