চট্টগ্রামে রিকশা কিনে বিপাকে ফার্মেসি ব্যবসায়ী, ভাড়া না দিয়ে উল্টো হয়রানির অভিযোগ

বিশেষ সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন রিয়াজ উদ্দিন উকিল সড়কের বরিশাল্যা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সফলতার সঙ্গে ফার্মেসি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন সমির মজুমদার। তবে জীবনযাত্রায় একটু স্বচ্ছলতা আনার আশায় কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে ১৪টি প্যাডেল রিকশা কিনে এখন চরম ভোগান্তি ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। পাওনা ভাড়া চাওয়ায় রিকশা চুরির মিথ্যা অভিযোগসহ নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এই ব্যবসায়ী।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ফার্মেসি ব্যবসার পাশাপাশি ২০২৫ সালের ২৪ মে সমির মজুমদার ১৪টি প্যাডেল রিকশা ক্রয় করেন। পরবর্তীতে রিকশাগুলো দৈনিক ১২০ টাকা ভাড়ায় খোকন নামের এক গ্যারেজ মালিকের জিম্মায় দেন। তবে রিকশা হস্তান্তরের পর থেকেই শুরু হয় জটিলতা। প্রায় এক বছর ধরে গ্যারেজ মালিক খোকন রিকশার বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আসছেন। শুধু তাই নয়, ভাড়ার বাইরেও খোকনের কাছে সমির মজুমদারের ৪৫ হাজার টাকা হাওলাতি পাওনা রয়েছে। পাওনা টাকা ও ভাড়া দাবি করতে গেলে সমির মজুমদারকে উল্টো বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ১ অক্টোবর (২০২৬) চান্দগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন ভুক্তভোগী সমির মজুমদার। তবে তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে সমস্যার সমাধান তো হয়নিই, উল্টো নিজের কেনা রিকশা চুরির অভিযোগে তাঁকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

কয়েকজন রিকশাচালকের বক্তব্যের বরাত দিয়ে সমির মজুমদার জানান, কথিত ‘চুরি হওয়া’ রিকশাগুলো আসলে গ্যারেজ মালিক খোকনের কাছ থেকেই ভাড়া নিয়ে চালকেরা নিয়মিত রাস্তায় চালাচ্ছেন। চালকেরা রিকশা চুরির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। খোকন কৌশল বদলে রিকশাগুলোর গ্যারেজ পরিবর্তন করে নিয়মিত ভাড়া আদায় করছেন বলেও জানান চালকেরা।

নিজের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে সমির মজুমদার বলেন, “কষ্টের উপার্জনে রিকশাগুলো কিনেছিলাম। এখন একদিকে রিকশার কোনো ভাড়া পাচ্ছি না, অন্যদিকে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে আমাকে সামাজিকভাবে বিব্রত করা হচ্ছে। রিকশাগুলো উদ্ধার এবং নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত খোকন সমস্ত দাবি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর নিজস্ব ৩০ থেকে ৩২টি রিকশা রয়েছে যা বর্তমানে রাস্তায় চলছে। সমির মজুমদারের বিরুদ্ধে আনা চুরির অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে খোকন প্রথমে ভিডিও প্রমাণ থাকার কথা জানান। তবে ভিডিওটি পাঠাতে বললে তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে একটি বড় মিডিয়া কাজ করছে”—এ কথা বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

নিজের কষ্টার্জিত সম্পদ ফেরত পেতে এবং হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।