নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম নগরের বাগমনিরাম এলাকায় পৈতৃক ও পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পরিবারকে নানাভাবে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্পত্তি আত্মসাৎ ও আদালতের মামলা তুলে নেওয়ার চাপ দিতে গিয়ে একমাত্র ছেলের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে চোখে গুরুতর জখম করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এক বাবা। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগী বাবা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার চট্টগ্রাম নগরের ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ডের ৭৩ নম্বর বাগমনিরাম লেইন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের মরহুমা মাতা মাকসুদা খাতুনের নামে থাকা বসতভিটা ও পৈতৃক সম্পত্তি তাঁর মেজো ভাই মরহুম আবদুল জলিল খোকন এবং ছোট ভাই আবদুল কাদের আসিফ বেআইনিভাবে ও জোরপূর্বক নিজেদের নামে লিখে নেন। এ ছাড়া কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা মাস্টার হাটে অবস্থিত মায়ের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। মায়ের মৃত্যুশয্যায় অন্য বোনদের দেখা করতে না দেওয়া এবং প্রতিবাদ করায় তাঁদের ওপরও নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে এসব অনিয়ম ও সম্পত্তির দলিল বাতিলের দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে প্রতিপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ভুক্তভোগীর একমাত্র ছেলেকে একা পেয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে গলায় আঘাতের চেষ্টা চালানো হয়। ছেলে আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করলে তার ডান চোখে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং মাটিতে ফেলে তাকে গাছের ডাল দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় বোন ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে ছোট ভাই আবদুল কাদের আসিফের স্ত্রী নাসরিন আক্তার রুজি তাঁকেও লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করছে, এই বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা যেকোনো সময় তাদের ঘরে মাদক বা অন্য কোনো অবৈধ বস্তু রেখে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর গভীর ষড়যন্ত্র করছে। এছাড়া অব্যাহত হুমকির কারণে পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবনও বর্তমানে চরম বিপন্ন।
এ ঘটনায় পরিবারটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে:
- জীবনের নিরাপত্তা: ভুক্তভোগী বাবা ও তাঁর সন্তানদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- আইনগত ব্যবস্থা: ছেলে ও মেয়ের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
- হুমকি ও নির্যাতন রোধ: প্রাণনাশের হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের বিচার এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা।
- মামলার সুরাহা: বিচারাধীন সম্পত্তি মামলার আইনানুগ নিষ্পত্তি ও ন্যায্য অধিকার রক্ষা করা।
- শান্তিপূর্ণ বসবাস: পরিবারটি যেন নিজ বাড়িতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি ও হয়রানি ছাড়াই নিরাপদে বসবাস করতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ।
একজন অসহায় পিতা হিসেবে মোহাম্মদ আবদুল জব্বার তাঁর ও তাঁর সন্তানদের জীবন রক্ষা এবং এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পেতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

