প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পরও জরাজীর্ণ সাতকানিয়ার মাদারবাড়ী নয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়: জলাবদ্ধতা ও বিদ্যুতের ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

মোঃ খোরশেদ আলম চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা : দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পরও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো উন্নয়ন হয়নি। ১০ নম্বর কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাদারবাড়ী নয়াপাড়ায় অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো পাঠদানের একাডেমিক ভবন, স্যানিটেশন ব্যবস্থা বা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা। উপরন্তু, বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক তার, জলাবদ্ধতা এবং সাপের উপদ্রবের কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিদ্যালয়টিতে ১৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন এসব সমস্যা দেখেও নীরব ভূমিকা পালন করছে।

ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার ও ভবন বাতিল

বিদ্যালয়ের টিনশেড চালের ওপর দিয়ে গেছে উচ্চভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তার। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে বিদ্যালয়টির জন্য একটি বহুতল ভবন বরাদ্দ হলেও বিদ্যুৎ লাইন ও খুঁটির কারণে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়ে যায়। খুঁটি সরাতে বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার আবেদন করলেও কোনো ফল মেলেনি। এর আগে, আম পাড়তে গিয়ে টিনের চালে উঠলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

জলাবদ্ধতা, বিষাক্ত পোকামাকড় ও চুরির উপদ্রব

বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ সমতলে হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যায়। ফলে পাঠদান ব্যাহত হয়। মাঠ ভরাট ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে ডেঙ্গু মশাসহ বিষাক্ত পোকামাকড়ের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। বর্ষায় শ্রেণিকক্ষে সাপ, বিচ্ছু, জোঁক, শিয়াল ও ইঁদুরের উপদ্রব নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনের দরজা-জানালা দুর্বল হওয়ায় প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে।

ঝুঁকিপূর্ণ প্রবেশপথ

বিদ্যালয়ের প্রধান গেটে প্রবেশের আগে মহাসড়কের দুই পাশে দুটি গভীর খাদ রয়েছে। এর ফলে শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জানান, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বিদ্যালয়টি অবহেলিত। মাঠ ভরাট, পানি নিষ্কাশন ও সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আলমগীর বলেন, “আমি সরাসরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো বরাদ্দ দিতে পারি না; পিছিয়ে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যতটুকু সম্ভব সহায়তা দিচ্ছি।”

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সবুজ কুমার দে জানান, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারের ঝুঁকির কারণে ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষ বরাদ্দ এনে সমস্যাটি সমাধানের পরামর্শ দেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের সার্বিক সমস্যার তথ্য ইতিমধ্যে শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করব এবং বিদ্যমান পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার অপসারণ, মাঠ ভরাট এবং নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন