নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম |
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতুর (নতুন ব্রিজ) দক্ষিণ প্রান্ত এখন স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দখলে। শিকলবাহা ইউনিয়ন ও চরপাথরঘাটা এলাকা সংলগ্ন সরকারি জায়গা ও নদীর তীর দখল করে চলছে রমরমা অবৈধ বাণিজ্য। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে, অন্যদিকে তীব্র জনদুর্ভোগ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
সড়ক ও পরিবেশের বেহাল দশা
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) সরকারি জায়গা দখল করে পাথর, বালি ও কংক্রিটের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একটি অসাধু চক্র। রাস্তা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বালুর স্তুপ এবং মেশিন দিয়ে ইট-পাথর ভাঙার উন্মুক্ত কারখানা। এই কারখানাগুলো থেকে নির্গত উচ্চমাত্রার শব্দ দূষণ, ধুলোবালি এবং বিষাক্ত গ্যাস (কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড) স্থানীয়দের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে যাতায়াতের প্রধান সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশনার তোয়াক্কা নেই
অভিযোগ রয়েছে, মেসার্স নাহার ট্রেডিং ও মেসার্স বার আউলিয়া কর্পোরেশনসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টের সীমানা নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে নদী ভরাট করে প্রাইভেট জেটি নির্মাণ করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গত বছর মেসার্স নাহার ট্রেডিংকে অবৈধ স্থাপনা ও বার্জ সরানোর জন্য চিঠি দিলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এছাড়া আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোজাম্মেল হক ওরফে ‘গাছ মোজাম্মেল’-এর বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ মিটার নদী দখল করে কৃত্রিম বাঁধ ও জেটি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
দর্শনার্থীদের বিমুখ হওয়ার আশঙ্কা
শাহ আমানত সেতু চট্টগ্রামের একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। নদীর মোহনায় প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য এলাকাটি এখন অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। এভাবে দখল ও দূষণ চলতে থাকলে অচিরেই দর্শনার্থীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
জেটি নির্মাণের অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হকের দাবি, সব কার্যক্রম কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মেনেই চলছে। এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরের এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (এস্টেট-২) মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন জানান, নদী ভরাট করে জেটি নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা মিললে এবং অনুমতিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি
পাউবো, সওজ এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এই জায়গাগুলো উদ্ধারে স্থানীয়রা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা বলছেন, এখনই পদক্ষেপ না নিলে শিকলবাহা ও চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ছাড়াও নদী ভাঙন এবং শাহ আমানত সেতুর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতির লাইফলাইন। অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রুখতে অবিলম্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নদী তীর সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।