চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি ও নোনা ইলিশে বিষাক্ত কীটনাশক: বাড়ছে মরণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি

মো : এরশাদ চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু খাবার শুঁটকি এবং নোনা ইলিশ এখন চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাহিদার কারণে বিপুল পরিমাণ শুঁটকি ও নোনা ইলিশ উৎপাদিত হলেও, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর লোভের কারণে বিষাক্ত হয়ে উঠছে এই ঐতিহ্য। রোদে শুকানোর সময় মাছি ও পোকার আক্রমণ ঠেকাতে এবং পচনরোধে মাছে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যন্ত ক্ষতিকর কীটনাশক ও অতিরিক্ত রাসায়নিক। যা মানবদেহে ক্যানসারসহ নানা মরণঘাতী রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় উৎপাদনকারী ও ভোক্তার দূরত্ব কম থাকায় স্থানীয়ভাবে খাবারের মান পর্যবেক্ষণ করা যেত। কিন্তু এখন এই ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ বহুগুণ বেড়েছে। একই চিত্র চট্টগ্রামের আরেক ঐতিহ্য নোনা ইলিশের ক্ষেত্রেও। ফ্রিজের ব্যবহার শুরুর আগে লবণ দিয়ে ইলিশ সংরক্ষণ করা হলেও, বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত নোনা ইলিশে লবণের নিম্নমান, ত্রুটিপূর্ণ সংরক্ষণ ও অস্বাস্থ্যকর প্যাকেজিংয়ের কারণে খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম এই পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অথচ মালিকপক্ষ একটু সচেতন হলেই এই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। আমরা নিয়মিত ব্যবসায়ীদের সচেতনতা ও নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত-সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি।”

অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে এর নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে আমরা যেমন ঐতিহ্য হারাবো, তেমনি সাধারণ মানুষও পড়বে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।”

খাদ্য নিরাপত্তার এই সংকট মোকাবিলায় উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসন ও ভোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ— স্বাদ ঐতিহ্য গড়ে তুললেও, নিরাপত্তাই তাকে বাঁচিয়ে রাখে।