আব্দুল মোমিন চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় এক স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে দরজা ভেঙে ১৫-১৬ জনের একদল সশস্ত্র ডাকাত দল দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত করেছে। ডাকাতরা গৃহকর্তাসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর ও জিম্মি করে প্রায় ৯ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। তবে পালানোর সময় স্থানীয় জনতার সাহসিকতায় রকিবুল ইসলাম রকি নামের এক ডাকাতকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর সিকদার চক এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস মাস্টারের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সুসংগঠিত ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আব্দুল কুদ্দুস মাস্টারের বসতঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই ডাকাতরা শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। এরপর তারা ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙে প্রায় ৯ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা লুট করে।
এদিকে ডাকাতির বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির লোকজন চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের প্রতিবেশীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে আসেন। গ্রামবাসীকে ধেয়ে আসতে দেখে ডাকাত দল মালামাল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে ডাকাত দলের সদস্য রকিবুল ইসলাম রকিকে ধরে ফেলে ক্ষুব্ধ জনতা। পরে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে ৯ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমদ জানান, জনতা কর্তৃক আটক হওয়া ডাকাত রকিকে ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং মালামাল উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।