​মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা ও যোগাযোগে জোর: বাজেটকে স্বাগত জানাল চেম্বার

আবদুল মোমিন চট্টগ্রাম:

ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার নতুন বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। বাজেট পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়া সভায় চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জানান, এবারের বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ।

বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় বৈদেশিক ঋণের পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর গুরুত্ব দেওয়াকে দেশীয় সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া করজাল বৃদ্ধি এবং জনগণের ওপর ভ্যাটের চাপ কমানোর পরিকল্পনাকে তারা ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম যোগাযোগে যুগান্তকারী পদক্ষেপ

চেম্বার নেতৃবৃন্দ বাজেটে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও বিনিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালার বিশেষ প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন এবং রেলপথের দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার কমানোর সিদ্ধান্তকে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন তারা। পাশাপাশি, মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগ উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

কর ছাড় ও ঋণ সুবিধায় স্বস্তি

বাজেটের বেশ কিছু ধারাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ব্যবসাবান্ধব উল্লেখ করে সভায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

টার্নওভার কর: ব্যক্তিগত করদাতাদের ক্ষেত্রে টার্নওভার করের সীমা ৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি টাকা করা।

আবগারি শুল্ক: ব্যাংক স্থিতিতে আবগারি শুল্ক অব্যাহতির সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা।

তরুণ ও কৃষি খাত: তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন ১০ লাখ টাকা ঋণ, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ এবং উচ্চশিক্ষায় ঋণ সুবিধা।

সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও গ্রিন এনার্জিতে গুরুত্ব

বাজেট পর্যালোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা জানান, কর্পোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা, ১১৩টি পণ্যের রেগুলার ডিউটি (RD) প্রত্যাহার এবং শিশুখাদ্য ও মসলা আমদানিতে শুল্ক হ্রাস সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সরাসরি সাহায্য করবে।

“সোলার প্যানেল, লিথিয়াম ব্যাটারি এবং ইভি (বৈদ্যুতিক যান) আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেশের জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”

একইসাথে আইটি খাতে ফ্রিল্যান্সারদের কর অব্যাহতি এবং নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে তারা ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করেন।

বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি

চেম্বার কার্যালয়ে আয়োজিত এই বাজেট প্রতিক্রিয়া সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপনসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ। এছাড়াও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বাজেট বিশ্লেষণে অংশ নেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নসরুল কাদিরসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞগণ।